Latest News
কলেজের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি  *****   Download ABCD College APP  *****  

History



১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সুতিকাগার শহীদ মশিউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত মধু কবি মাইকেল মধুসুদন দত্তের কাব্যিক কপোতাক্ষ নদ বেষ্টিত যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলা। স্বাধীনতার প্রবেশদার যশোর জেলার চৌগাছা  উপজেলার উত্তর অঞ্চলের  অবহেলিত, অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত  জনগোষ্ঠিকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার এক মহান প্রয়াস নিয়ে উপজেলার কিছু মহৎ, মহান ও ব্যক্তিত্ববান মানুষ ২০০০ সালে একটি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। উদ্যোক্তারা হলেন  হাকিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত জনাব আজিজুর রহমান, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মোঃ আইউব হোসেন, মোঃ বখতার উদ্দীন খান, মোঃ রেজাউল ইসলাম, মোঃ হেলাল উদ্দীন, আব্দুস শুকুর, মোঃ আবু তাহের ও মোঃ সেলিম হোসেন। তাদের উদ্যোগে কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ভর্তির অনুমতি চেয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর-এ একটি আবেদন করা হয়। আবেদনে স্বাক্ষর করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে মোঃ রেজাউল ইসলাম,  আবেদনটি জমা দেন মাওলানা নূরুল ইসলাম।

২০০০ সালে কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির জন্য আবেদন করা সত্ত্বেও ভর্তির অনুমতি পাওয়া যায়নি। ২০০১ সালে পুণঃ ভর্তির আবেদন মাওঃ নুরুল ইসলাম, জনাব মোঃ কামাল উদ্দীনের সহযোগীতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে পরিদর্শনের জন্য অনুমতি পত্র নিয়ে বোর্ডে জমা দেওয়া হয়। কলেজ পরিদর্শক জনাব জামাল হোসেন স্যারের কৃপায় এবং চৌগাছা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জনাব মোস্তানিছুর রহমান ও জনাব সুলতান আহমেদ অধ্যক্ষ, ডাঃ আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ এর  সহযোগিতায় ২০০১ সালের ২৪ জুন এ, বি, সি, ডি কলেজটি ভর্তির অনুমতি লাভ করে। ভর্তির আবেদনের সাথে প্রাক্তন সংসদ সদস্য ও জালানী প্রতিমন্ত্রী জনাব রফিকুল ইসলাম সাহেবের ডিও লেটার দেওয়া হয়। ডিও লেটার সংগ্রহ করে দেন জনাব এস এম হাবিবুর রহমান, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান চৌগাছা। এছাড়া আরও সহযোগীতা করেছিলেন বি এম সেলিম রেজা।

২০০১ সালের ২৪ জুন কলেজ ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তির অনুমতি পাওয়ার পর পার্শ্ববর্তী হাকিমপুর গ্রামের মানুষের বিরোধিতার মুখে পড়ে কলেজটি । এক পর্যায়ে এখান থেকে উঠিয়ে হাকিমপুর গ্রামে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে উঠে। এলাকাবাসীর সহযোগীতায় মাওঃ নুরুল ইসলাম, কামাল উদ্দীন, জনাব মোস্তানিছুর রহমান, কামরুল হাসান ও জনাব আইউব হোসেন এর কঠোর পরিশ্রমে কলেজটি শেষ পর্যন্ত যথাস্থানে বহাল থাকে। ইতিহাস বর্ণনায় বলতে গেলে জনাব আইউব হোসেনের সেই কর্মের কথা স্মরণ করতে হয় যখন পাশের বিরোধিতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল, তখন এই কলেজকে টিকিয়ে রাখার জন্য জনাব আইউব হোসেন ও কামাল উদ্দিন রাত দিন ঢাকা শহরে মানুষের দারে দারে ঘুরেছে। জনাব ডঃ শমসের আলী ও জনাব মাওঃ আব্দুস সোবহান সাহেবের সহযোগীতায় সচিব শহিদুল আলমের কৃপায় ২০০৩ সালের ১৮ মার্চ কলেজটি স্বীকৃতি লাভ করে।

জনাব রাশেদুল ইসলাম, জনাব কামাল উদ্দীন, জনাব আইউব হোসেন, জনাব মোস্তানিছুর রহমান, মাওলানা নুরুল ইসলাম, জনাব গোলাম মোরশেদ, মোঃ খাইরুল ইসলাম, মোঃ আবুল খায়ের, জনাব কামরুল হাসান এবং চৌগাছার সংসদ সদস্য জনাব আবু সাঈদ মোহাম্মদ সাহাদাৎ হুসাইন, তাদের প্রচেষ্টায় ২০০৪ সালে ১লা এপ্রিল থেকে কলেজটি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এম, পি, ও ভূক্ত হয়।

এছাড়া বিভিন্ন সময় অর্থ দিয়ে সহযোগীতা করেছেন জনাব জনাব ছাদেক আলী বিশ্বাস, আতিয়ার রহমান, মোস্তনিছুর রহমান, বজলুর রহমান ও তাজবিদ্যুজ্জামান ।

২০০৫ সালের ০৯ই জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে এ, বি, সি, ডি কলেজ স্নাতক (পাশ) কোর্সের অধিভুক্তি লাভ করে এই এলাকার জনগোষ্ঠীকে উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।

জনাব রাশেদুল ইসলাম ও জনাব আইউব হোসের প্রচেষ্টায় এ, বি, সি, ডি কলেজে ২০০৫ সালের ৩১ আগষ্ট তারিখে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচ, এস, সি ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (বিএম) শাখার অ্যাফিলিয়েশন পায়।

২০১১ সালে ২০১০-১১ শিক্ষা বর্ষ হতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা দুইটি বিষয় এবং ২০১২ সালে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ হতে হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ভর্তি অনুমোদন পেয়েছে।

এ,বি, সি, ডি কলেজে ডিগ্রী (পাস) কোর্স পরীক্ষার কেন্দ্র ২০০৬ সালে স্থাপিত হয়। ২০০৬ সালে কলেজে বি, এম শাখার পরীক্ষা কেন্দ্র এবং ২০০৭ সাল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোরের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব আমিরুল আলম খান স্যারের কৃপায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব অশোক কুমার দেবনাথ স্যারের সহযোগীতায় উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপিত হয়।